সম সাময়িক ঘটনা !

নুরজাহান বেগম কয়দিন ধরে হাঁটুর যন্ত্রনায় ভুগছেন শেষ পর্যন্ত টিকতে না পেরে ডাক্তারের কাছে এসেছেন সঙ্গে তার বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া সুন্দরী নাতনি ভুরু কুঁচকে খুব বিরক্তি নিয়ে ডাক্তারের রুমে ঢোকেন বেশ নামকরা হাসপাতালের খুব নামকরা একজন ডাক্তার তিনি চারিদিকে চোখ ঘুরিয়ে তাকান ,মুখে অশুচি একটা ভাব ডাক্তারের টেবিল থেকে একটা ট্যিসু নিয়ে চেয়ারটা মুছে তারপর বসেন ডাক্তার খুব বিনয়ের সাথে বলেন,মা ,কি সমস্যা আপনার বলুন নুরজাহান বেগম ডাক্তারকে থামিয়ে বলেন,

‘আগে আমার কিছু প্রশ্নের উত্তর দেন ,তারপর আমার সমস্যার কথা বলতেছি ডাক্তার কিছুটা থতমত খেয়ে বলেন,’জ্বি বলুন ,কী বলবেন নুজাহান বেগম নড়েচড়ে বসেন,একবার নাতনির দিকে তাকান, সেখানে মেঘ জমেছে কিন্তু পাত্তা দেন না গলাটা যথাসম্ভব গম্ভীর করে বলেন ,’আপনি কি পাশ করা ডাক্তার ?নাকি ফেল করে নকল সার্টিফিকেট দিয়ে ডাক্তারি করছেন?

ডাক্তারের মুখ ঈষৎ হা হয়ে যায় পরের প্রশ্ন আরো মারাত্মক,তিনি আবার বলেন,’নাকি ওষুধের দোকানের ওষুধ বিক্রি করতে করতে ডাক্তার হয়েছেন? কিছুই বলা যায় না ,আজকাল ডাক্তারদের কম্পাউন্ডাররাও ডাক্তার সাইজা বইসা থাকে এখন বলেন আপনি কেমন ডাক্তার ? নাহলেতো ভুল চিকিৎসায় আমার জীবনটাই চলে যাবে এতো কথার মাঝে তার নাতনি বার কয়েক তাকে থামাতে চেষ্টা করে কিন্তু তিনি তার তোয়াক্কা না করে মনের ক্ষোভের কথা গড়গড় করে বলে যান ডাক্তার ঠান্ডা মেশিনের হওয়ায়ও ঘামতে থাকেন,তিনি কিছু একটা বলতে যেয়েও থেমে গেলেন,সামনে সুন্দরী একজন মেয়ে বসে আছে,

তার সামনে নিজেকে সংযত করে রাখলেন কিন্তু তিনি হাসবেন না কাঁদবেন ,নাকি রেগে যাবেন কিছুই বুজতে পারলেন না তবে তার মুখ দেখে খুব অসহায় মনে হতে থাকে ডাক্তার নিজেকে খুব কষ্টে সংযত করেন,লম্বা একটা দম নেন,তাপর রোগীর দিকে তাকিয়ে বলেন ,’দেখেন মা ,সমসাময়িক ঘটনার কারণে আপনার এ সব প্রশ্ন করাটা জায়েজ ,কিন্তু আমরা ভয়ে বা লজ্জায় এসব জিজ্ঞেস করি না তবে আপনি পেরেছেন ,আপনাকে সাহসী বলতে হয় তবে আপনি নিশ্চিত থাকুন আমি পাশ করেই ডাক্তার হয়েছি, নাহলে এতবড়ো হাসপাতালে চাকরি করতে পারতাম না’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *