বিবাহিতরা প’রকীয়ায় আসক্ত হয় কেন?

প’রকীয়া শব্দের অর্থ বলতে যা বুঝি, তা হলো বিবাহিত কোন ব্যক্তির (নারী বা পুরুষ) স্বা’মী বা স্ত্রী ছাড়া অন্য কারো সাথে বি’বাহোত্তর বা বিবাহ ব’হির্ভূত প্রেমের সম্পর্ক, সেটা মা’নসিক, দৈ’হিক বা দু’য়ের তা’ড়নায়ও হতে পারে। এটা আগেও ছিলো, এখনো আছে এবং থাকবে।

আ’সক্তি কেন আসে, এ সম্পর্কে অনেক যুক্তি, প্রশ্ন, উত্তর, তর্কের অ’বতারণা হতেই পারে, কিনতু, কোনোটাই আসল কারণ না ও বা হতে পারে, কারণ, যিনি প’রকীয়ায় জ’ড়িয়ে যান, তিনি নিজেও বিশ্লেষণ করতে পারেন না যে কেন এমনটা হলো। “প’রকীয়াকে যদি সম্পর্ক বহির্ভূত প্রেম এর আখ্যা দেয়া হয়, সেটাও সঠিক কি না বলা যাবে না, কারণ প্রেম তো

একটি সম্পর্কেরই সূচনা করে। কেউ প’রকীয়াকে পা’প পূণ্যের দাঁড়ি পা’ল্লায় উঠিয়ে মা’পঝোঁক করেন, কেউ আবার সমাজ সেবার নামে, প’রকীয়াই সমাজের অ’বক্ষয়ের একমাত্র কারণ, বলে গর্জে উঠেন। এতে প’রকীয়া বন্ধ হয় কি না জানিনা, কিন্তু তিনি নিশ্চিত ভাবেই সমাজসেবীর ত’কমাটা পকেটস্থ করে ফেলতে পারেন। অনেকে বলে থাকেন যে যেখানে স্বামী, স্ত্রীর সম্পর্ক কোনোভাবে আহত হয়, সেখানে প’রকীয়ার জন্ম হয়।

কিনতু, আমার তা মনে হয় না। কারণ, স্ত্রীর সাথে স্বামী হিসাবে সুমধুর সম্পর্ক বজায় রেখেও আমি অন্য নারীকে মনের মনিকোঠায় বসিয়ে রাখি, ভালোবাসি। স্ত্রী কে যখন নি’র্ভেজাল মি’থ্যে কথাটা বলি,’তুমিই আমার সবকিছু’, তখন আমার মনের গভীরে রাখা সেই নারী মুচকি হাসে। সমাজ, সংসার সবকিছুর কথা মাথায় রেখে হয়তো বা অন্য নারীর সাথে প্রকাশ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলি না, বা শুদ্ধ করে বললে, গড়ে তোলার সা’হস পাই না, কিনতু আমি জানি, আমি প’রকীয়ায় আ’সক্ত। যেখানে প’রকীয়া নিয়ে পক্ষে বলা হয়,

সেখানে গম্ভীর হয়ে থাকি, পক্ষে বলা বক্তব্য গুলিকে নি:শব্দে উপভোগ করি আর যেখানে প’রকীয়ার বি’পক্ষে বলা হয়, সেখানে গলা চড়িয়ে পরকীয়ার বিপক্ষে ভাষণ দিই, প্রশংসা কুড়ানোর আশায় নিজেকে চরিত্রবান বলে জাহির করি। আদ্যন্ত ভন্ডামি। কেউ আমার এই ভন্ডামিটা ধরতে পারে না দু’জন ছাড়া, একজন আমি আর অন্যজন? অন্যজন সে ,আমার মনের ভেতরে লু’কিয়ে রাখা সেই না’রী, যার কথা আমি আমার স্ত্রীকে ও বলার মতো সততা বা সাহস রাখি না। যু’ক্তি, তর্ক, বুদ্ধি, বি’চারশক্তি যেখানে বারবার পরাজিত হয়,

সেখানে বিরাজ করে আবেগ, জন্ম হয় “প’রকীয়া”র । স্ত্রী ছাড়া অন্য নারীর সাথে যে প্রেমের সম্পর্ক তৈরী হয়, সেটাতো একটা শুধুমাত্র মনের সম্পর্ক ও হতে পারে, শুধুমাত্র ভালোবাসাবাসির সম্পর্ক ও হতে পারে, যাতে অপরাধবোধের জায়গাটাই তৈরী হওয়ার সুযোগ নেই, কিনতু, এই সম্পর্কটাই আক্রান্ত, র’ক্তাক্ত ,বি’দ্ধস্থ হয়ে যায় “প’রকীয়া” বানে। প’রকীয়া নিয়ে সাহিত্যে অনেক সৃষ্টি হয়েছে, পাতার পর পাতা লেখা হয়েছে, কিনতু, প’রকীয়ার কারণটা স্পষ্ট করে কোথাও বলা হয়নি। প’রকীয়ার কারণে, স্বামী স্ত্রীর সম্পর্কে বি’চ্ছেদ হয়েছে, সংসার ভে’ঙ্গেছে,

সমাজে মান সম্মান গেছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এটাকেই মূলত, উপজীব্য বিষয় করে তোলা হয়েছে, কিনতু, প’রকীয়া যে মন কে নতুন রঙে রাঙিয়ে দিয়েছে, জীবনকে নতুন ভাবে সাজিয়েছে, জীবনে বাঁচার অর্থ কে নতুন মাত্রা দিয়েছে, সেই দিকগুলিকে অতি সাবধানে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে, ফলে, জন্ম হয়েছে একটি প্রশ্নের “বিবাহিতরা প’রকীয়ায় আ’সক্ত হয় কেন ?” মহামান্য সুপ্রীম কোর্ট এর রায় অনুযায়ী, প’রকীয়া ফৌজদারী অ’পরাধ নয়। এ সম্পর্কে বলা যেতে পারে, যেখানে সমাজের অনুশাসনে প’রকীয়াকে গো’পনে চলতে হয়, সেখানে প’রকীয়া বেঁচে থাকলেও থাকতে পারে, কিনতু, যেখানে প’রকীয়াকে বি’চার ব্যবস্থার সামনে মুখোমুখি দাঁড়াতে হয়, সেখানে প’রকীয়া ,তার ভ’বিষ্যত্‍ অ’স্তিত্বের প্রশ্ন খুঁজে শ’ঙ্কিত হয়ে পড়ে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *